শিশুর অতিচঞ্চলতা - ADHD লক্ষণ নয় তো?

শিশুর অতিচঞ্চলতা – ADHD লক্ষণ নয় তো?

🇨🇭 ” আপা ” বইলেন না, এই বাচ্চা নিয়ে যে কী পেরেশানিতে আছি! ঘরের সব কাঁচের জিনিস, ছুরি-কাঁচি, দামি জিনিস লুকিয়ে না হয় হাতের নাগালের বাইরে রাখি। তাও চেয়ারে উঠে নামিয়ে আনে। ঘরে যাও চড়-থাপ্পড় দিয়া সামলে রাখি, কারও বাসায় গেলে লজ্জায় পড়তে হয়। কী ধরবে, কী ভাঙবে- অস্থির করে ফেলে। পরিচিত কেউ সহজে এখন আর দাওয়াত দিতে চায় না, স্কুলের টিচাররা কমপ্লেইন করে।

🇨🇭 শ্বশুরবাড়ির লোকজন আমাকে দোষ দেয়, আমি নাকি বাচ্চা সামলাতে পারি না। এ বয়সে বাচ্চারা নাকি এমন করেই। আমি খারাপ, তাই বাচ্চারে পাগলের চিকিৎসা করাতে চাই। কত কষ্ট করে, মিথ্যা বলে যে হাসপাতালে নিয়ে আসছি”!!

🇨🇭 আমাদের চারপাশে এমন শিশুর সংখ্যা কম নয়। অনেকেই মনে করেন, একটা বয়সে শিশুরা চঞ্চল থাকবেই। কিন্তু মাত্রারিক্ত চঞ্চলতা যে শিশুর এক ধরনের আচরণগত সমস্যা, যেটিকে চিকিৎসার আওতায় না আনা গেলে ভবিষ্যতে বিপদ হতে পারে- তা বুঝতে চান না অনেকেই।

🇨🇭 বিশেষজ্ঞরা বলেন, শিশুদের এমন অতিচঞ্চলতা বা হাইপার অ্যাক্টিভিটি অনেক ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক নয়। এ ধরনের প্রবণতা শিশুর বিকাশগত সমস্যা বা অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাকটিভিটি ডিজঅর্ডার ( এডিএইচডি – ADHD ) নামের একটি রোগের একটি লক্ষণও হতে পারে। অনেক সময় এই আচরণকে স্বাভাবিক হিসেবে বিবেচনা করায় এটি সত্যি সত্যিই এডিএইচডি কি না, তা নির্ণয়ে দেরি হয়। ফলে, চিকিৎসায় ভালো হওয়ার সম্ভাবনাও কমতে থাকে।

শিশুর অতিচঞ্চলতা - ADHD লক্ষণ নয় তো?

🇨🇭 ADHD কী? কেন হয়?

🇨🇭 এডিএইচডি-ADHD, শিশুর মানসিক বিকাশগত একটি সমস্যা, যার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ নেই। ধরে নেওয়া হয় এটা জিনগত ও পরিবেশের প্রভাবে হয়। মা অথবা বাবার যে কারও একজনের এডিএইচডি থাকলে শিশুরও এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা 50 শতাংশ। এই রোগ সাধারণত মেয়েদের চেয়ে ছেলে শিশুদের বেশি হয় ( 4:2 )। এছাড়া মস্তিষ্কের রোগ, থাইরয়েড হরমোনের আধিক্য, গর্ভকালীন মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা, বিষাক্ত রাসায়নিক, কীটনাশক, লোহা ও সীসার সংস্পর্শে আসা, অপুষ্ট ও সময়ের আগে সন্তান হলেও পরবর্তী সময়ে এই রোগ হতে পারে।

🇨🇭 সাধারণত, শিশুর চঞ্চলতাকে বয়সের সঙ্গে স্বভাবিক ধরে নেওয়ায় রোগ নির্ণয় করতে অনেকসময় দেরি হয়ে যায়। 07 থেকে 12 বছর বয়সের আগে অধিকাংশ বাবা-মা বুঝতেই পারেন না, সময়ে ঠিক হয়ে যাবে মনে করে।

🇨🇭 কী দেখে বুঝবেন শিশুর এডিএইচডি-ADHD আছে?

🇨🇭 ADHD রোগের তিনটি ধরন থাকে:
  • 🩸 শুধুই অমনোযোগিতা।
  • 🩸 অতিরিক্ত চঞ্চলতা ও অযাচিত আচরণ।
  • 🩸 ওপরের দুটো’ই একসঙ্গে হওয়া, যা বেশিরভাগ শিশুদের ক্ষেত্রে দেখা যায়।

🇨🇭 ADHD রোগের লক্ষণ:

1.নিজের মনমতো কাজ করা ও নিজের ইচ্ছেকে প্রাধান্য দেওয়া।

2.কোনো কাজ সুশৃঙ্খলভাবে না করা ও শেষ পর্যন্ত লেগে না থাকা। দ্রুত মনযোগ সরে যাওয়া।

3.কারণ ছাড়াই হঠাৎ করে রেগে যাওয়া, জিদ করা বা বিষণ্ণ হয়ে যাওয়া।

4.এক জায়গায় স্থির হয়ে না বসা, সারাক্ষণই ছুটোছুটি করা।

5.চুপচাপ কোনো কাজ না করা, অযথাই চিৎকার করা, অপ্রয়োজনে ও অপ্রাসঙ্গিক কথা বলা। অন্যের কথার মাঝে কথা বলা ও তাদের কথায় কান না দেওয়া।

6.যেভাবে করতে বলা হয়, তা মেনে না নেয়া, গুছিয়ে কোনো কাজ না করতে পারা, প্রায়ই কাজে ভুল করা যেমন: হোমওয়ার্ক না করা, জিনিসপত্র হারানো।

7.কথা মনযোগ দিয়ে না শোনা, উদাস হয়ে যাওয়া, অবাস্তব কল্পনা করা, অন্যদের এড়িয়ে চলা বা মিশতে না পারা, হঠাৎ মারামুখি হওয়া।

শিশুর অতিচঞ্চলতা - ADHD লক্ষণ নয় তো?

🇨🇭 অটিজম আর ADHD কি একই রোগ?

🇨🇭 না, দুটো একই রোগ না। অটিজমে অমনোযোগিতা, সঙ্গবিমুখ হওয়া, নির্দেশনা না মানার মতো কিছু লক্ষণ আছে এডিএইচডি’র মত। তবে এগুলো অটিজমের অংশ নয়।

🇨🇭 ADHD রোগ নির্ণয়ের উপায়:

🇨🇭 মাত্রারিক্ত ও ধ্বংসাত্মক চঞ্চলতাকে অবহেলা বা প্রশ্রয় না দিয়ে তার মধ্যে রোগের কোনো লক্ষণ দেখা গেলে নিকটস্থ শিশু বিকাশ কেন্দ্র বা নিউরোলজির বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। বিভিন্ন আচরণগত, ল্যাবরেটরি পরীক্ষা ও বিকাশের ধাপগুলো যাচাই করেই তাকে এডিএইচডি রোগী বলা হবে, এর আগে নয়।

🇨🇭 ADHD রোগের চিকিৎসা না করালে কী ক্ষতি?

🇨🇭 বয়সের সঙ্গে সঙ্গে বড় হলে বাচ্চা ঠিক হয়ে যাবে, এমন আশা করে লাভ নেই। কারণ, 30 থেকে 70 শতাংশ ক্ষেত্রে এ রোগ বড় হলেও থেকেই যায়। সময়মতো চিকিৎসা না করলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। এ রোগে আক্রান্তরা পরিবার, সমাজ বা কর্মক্ষেত্র- কোথাও খাপ খাওয়াতে পারে না।

🇨🇭 ADHD রোগের চিকিৎসা:

অতিরিক্ত চঞ্চলতা কমানোর জন্য ওষুধ দেওয়ার আগে কিছু প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ফল পাওয়া যেতে পারে। শিশুকে এসব প্রক্রিয়ার মধ্যে আনা গেলে ধীরে ধীরে এডিএইচডি’র লক্ষণগুলো কমতে দেখা যেতে পারে, ধীরে ধীরে সবগুলো লক্ষণ থেকে মুক্ত হয়ে শিশু স্বাভাবিকও হয়ে যেতে পারে। এসব প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে:

1.শিশুর এনার্জিকে ভালো কাজে লাগানো, যেমন: সাঁতার কাটা, সাইক্লিং করা, কারাতে বা মার্শাল আর্ট শেখানো।

2.সহজ ভাষায় ও অল্প কথা শিশুতে কাজ বুঝিয়ে দেওয়া এবং শিশুর মেজাজের সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে সহানুভূতি নিয়ে তাকে শেখানো।

3.ছোট ছোট কাজের তালিকা করে দেওয়া, যেন সে অল্প সময়ে মনে করে সব কাজ করতে পারে। একইসঙ্গে কাজের জন্য সময় বেঁধে দেওয়া।

4.তালিকা অনুযায়ী কাজ করলে শিশুর প্রশংসা করা ও প্রয়োজনে তার জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা রাখা।

5.ঘরে টিভি, ল্যাপটপ বা ট্যাবলেট কম্পিউটারের ব্যবহার কমিয়ে দিয়ে বাইরে খোলা মাঠে সবুজ প্রকৃতিতে খেলার সুযোগ করে দেওয়া।

6.শিশু হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে গেলে মনযোগ সরিয়ে নেওয়া, জোরে জোরে শ্বাস নিতে বলা এবং সহানুভূতি নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলা।

7.স্কুলের শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে সমন্বয় রাখা, যেন যেন ক্লাসেও শিশুটি মনোযোগ পায়। শিশুকে পড়া তৈরি করতে সাহায্য করা, প্রশংসা করা, কোনো কাজ ঠিকমতো করতে পারলে তাকে পুরস্কৃত করা- বাড়ির মতো স্কুলেও এ বিষয়গুলো নিশ্চিত করা।

8.শান্ত রাখার জন্য মাঝে মাঝে শিশুকে গান শুনতে দেওয়া, বিশ্রামে রাখা ও তার সঙ্গে সহজ ভাষায় গল্প করে তার মনযোগ ধরে রাখা।

শিশুর অতিচঞ্চলতা - ADHD লক্ষণ নয় তো?

🇨🇭 খাবারের সঙ্গে এডিএইচডি’র সম্পর্ক:
শিশুদের সাধারণত গম, ভুট্টা, চকলেট, টমেটো, আঙ্গুর, সিমজাতীয় খাবার দিতে নিরুৎসাহিত করা হয়। চিনি বা কোনো অ্যালার্জিক খাবারের সঙ্গে এডিএইচডি বাড়ার কোনো সম্পর্ক নেই। তবে মা-বাবার কাছে যদি মনে হয় কোনো খাবারে শিশুর চঞ্চলতা বেড়ে যায়, তাহলে সে খাবারটি দিয়ে পরীক্ষা করতে হবে সেটি অ্যালার্জির কারণে নাকি অতিচঞ্চলতার কারণে ঘটছে।

🇨🇭 তবে অনেক গবেষণায় বলা হয়, ভিটামিন বি, সি, ডি-থ্রি, ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড ও ম্যাগনেশিয়াম জাতীয় ভিটামিন ও খনিজ জাতীয় খাবার এই চিকিৎসায় ভালো কাজ দেয়।

আরো পড়ুনঃ শিশু ছেলেদের যৌনাঙ্গের রোগ | ডাঃ মাসুদ হোসেন।

🇨🇭 আমাদের দেশে কি ADHD রোগের চিকিৎসা আছে?

🇨🇭 উন্নত দেশে এসব শিশুদের জন্য আলাদা স্কুল, হসপিটাল, চিকিৎসক এমনকি পরিচর্যাকারী, শিক্ষকদের সমন্বয়ে গ্রুপ তৈরি করে চিকিৎসা করা হয়। এসব শিশুদের আলাদা ভাতাও দেওয়া হয়।

🇨🇭 আমাদের দেশে গুটিকয়েক স্কুল ও ব্যক্তি উদ্যোগে কিছু প্রতিষ্ঠান এ সমস্যায় সেবা দিয়ে থাকে। তবে প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশু বিকাশ কেন্দ্র আছে, যেখানে অভিজ্ঞ চাইল্ড নিউরোলজিস্ট এসব শিশুর চিকিৎসা ও থেরাপি দিয়ে থাকেন। এছাড়া এসব শিশুদের অভিভাবকদেরও কাউন্সেলিং করা হয় প্যারেন্টিং নিয়ে। কিভাবে এসব শিশুর সঙ্গে কথা বলতে হবে, তাদের মেজাজ কিভাবে সামলাতে হবে, এ বিষয়গুলোও মা-বাবাকে শেখানো হয়। সাধারণত শিশুর ওপর রাগ করলে বা তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। শিশুকে তখন নিয়ন্ত্রণ করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। তাই শিশুর তীব্র জেদের মুখেও কিভাবে নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে, সে বিষয়গুলোও মা-বাবাকে শেখানো হয়। স্কুলশিক্ষকদেরও চাপ না দিয়ে এসব শিশুকে পড়ানোর উপায় নিয়ে জানানো হয়। অনেক সময় থেরাপিতে উন্নতি না হলে শিশুদের জন্য মুখে খাওয়ার ওষুধ দিতে হয়। তাতেও অনেক শিশু ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসে।

🇨🇭 শিশুর অতিরিক্ত চঞ্চলতা, কী করবেন?

🇨🇭 শিশুর মাত্রাতিরিক্ত চঞ্চলতা এবং অমনোযোগ যদি তার দৈনন্দিন কাজকে বাধাগ্রস্ত করে, পড়ালেখায় বিরূপ প্রভাব ফেলে, সামাজিক আচরণে বিঘ্ন ঘটায়, সে প্রবণতাই এডিএইচডি বা অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপার অ্যাকটিভিটি ডিজঅর্ডার। তবে এই লক্ষণগুলো যদি সাত বছরের কম বয়সী শিশুর মধ্যে কমপক্ষে ছয় মাস ধরে দেখা যায়, তখনই কেবল সেটাকে এডিএইচডি বলা হয়। এটি মস্তিষ্কের মনোযোগ-সংক্রান্ত অসুস্থতা। আবার কেউ কেউ এটাকে স্নায়ুবিকাশজনিত বা আচরণগত সমস্যা বলে থাকেন।

🇨🇭 ADHD রোগের উপসর্গ:

ইন-অ্যাটেনশন বা মনোযোগ রাখতে সক্ষম নয় এমন। হাইপার অ্যাকটিভিটি বা প্রয়োজনের তুলনায় অতি-সক্রিয়। ইম্পালসিভিটি বা চিন্তা ছাড়াই দ্রুত ঘটে এমন কাজ।
সাধারণত মা-বাবা বা স্কুলের শিক্ষকের নজরে এ সমস্যাগুলো সবার আগে ধরা পড়ে। মাত্রাতিরিক্ত চাঞ্চল্য লক্ষ করলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

🇨🇭 লক্ষণ:
কোনো কিছুর প্রতি বেশিক্ষণ মনোযোগ ধরে রাখতে না পারা। পড়ালেখা এমনকি খেলাধুলায়ও মন:সংযোগ রাখতে না পারা। সারাক্ষণ ছোটাছুটি করা, চিন্তাভাবনা না করে হঠাৎ কিছু করে ফেলা। স্থিরভাবে বসে থাকতে না পারা, বসলেও অনবরত পা নাড়াতে থাকে, টেবিল চাপড়াতে থাকা।
নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলা, খুব দ্রুত রেগে যাওয়া। বই-কলম প্রায়ই হারিয়ে ফেলা। লাফিয়ে উঁচুতে উঠে যাওয়া, পড়ে যাওয়া, প্রায়ই আঘাত পাওয়া। খুব দ্রুত কথা বলা, প্রশ্ন শোনার আগেই জবাব দেওয়ার জন্য অস্থির হয়ে পড়া। বড়দের কাজ বা কথার মাঝে ক্রমাগত বাধা দিতে থাকা। একসঙ্গে অনেক কিছু করার চেষ্টা করা, কিন্তু কোনোটাই শেষ না করা। চারপাশের অবস্থা সম্পর্কে হেঁয়ালিপনা। অসাবধানতার কারণে বারবার ভুল করা, নিয়মকানুন অনুসরণ করতে না পারা, অন্যমনস্ক থাকা এবং কোনো তথ্য মনে রাখতে না পারা।

শিশুর অতিচঞ্চলতা - ADHD লক্ষণ নয় তো?

🇨🇭 এডিএইচডির-ADHD রোগের কারণ:

🇨🇭 শিশু কেন এ ধরনের সমস্যায় আক্রান্ত হয়, তার নির্দিষ্ট কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে এর পেছনে বিভিন্ন ধরনের প্রভাবকে দায়ী করা হয়। যেমন:
জন্মকালীন জটিলতা। জিন ও বংশগত প্রভাব। গর্ভাবস্থায় মায়ের ওষুধের প্রভাব, বিশেষ করে মানসিক রোগের ওষুধ।
গর্ভাবস্থায় মায়ের ধূমপান ও মাদক সেবন। শরীরে জিংকের ঘাটতি। খাদ্যে মেশানো কৃত্রিম রং এবং প্রিজারভেটিভ এডিএইচডির জন্য উল্লেখযোগ্য কারণ হিসেবে বিবেচিত।

🇨🇭 ADHD রোগে করণীয়:

🇨🇭 এডিএইচডিতে আক্রান্ত শিশুদের আবেগ ও আচরণ নিয়ন্ত্রণ করা বেশ কঠিন। এর সমাধান শুধু ওষুধ নয়, ওষুধের পাশাপাশি কার্যকর চিকিৎসা হিসেবে আচরণগত ও জীবনযাত্রাগত নিয়মকানুন অনুসরণ করতে হবে ধৈর্য নিয়ে। এ ক্ষেত্রে পরিবার এবং স্কুলের সহযোগিতা জরুরি।
বয়স অনুযায়ী শিশুর খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে পুষ্টি নিশ্চিত করতে হবে।
কখনো কখনো রক্ত পরীক্ষা করে চিকিৎসক কিছু খাবার কম বা না দিতে পরামর্শ দেন,বিশেষ করে চকলেট, মিষ্টি, দুধ বা দুধজাতীয় খাবার, বাদাম ইত্যাদি। তবে এ বিষয়ে নিজে থেকে সিদ্ধান্ত না নিয়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

মোবাইল ফোন, ট্যাব, টিভি ইত্যাদি ব্যবহার বা দেখার সময় কমিয়ে আনতে হবে। দুই বছরের নিচের শিশুদের স্ক্রিন থেকে দূরে রাখতে হবে। দুই বছরের বেশি বয়সের শিশুদের সারা দিনে এক থেকে দুই ঘণ্টার বেশি স্ক্রিন দেখতে দেওয়া যাবে না। শিশুর জন্য খাওয়া, ঘুমানো, খেলা ইত্যাদি বিষয়ে প্রতিদিনের একটি রুটিন তৈরি করুন। বাড়ির সবাই নিয়ম মেনে চলুন। দিনের পরিকল্পনা করুন। শিশুর কাছে কোন ধরনের আচরণ আশা করা হচ্ছে, তা নির্দিষ্ট করে দিন।
শিশুকে কোনো নির্দেশ দিলে বিভ্রান্ত না করে সুস্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিন। রূঢ় আচরণ করবেন না। শিশুর ভালো কাজের প্রশংসা করুন, ইতিবাচক আচরণকে পুরস্কার বা প্রশংসার মাধ্যমে স্বীকৃতি দিন। শিশুর খাদ্যতালিকায় কৃত্রিম রং ও কনজারভেটিভ রাখবেন না।
শিশুকে পরিবারের বাইরেও মেলামেশার সুযোগ দিন। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন সে আত্মনিয়ন্ত্রণ হারিয়ে না ফেলে। সে ক্ষেত্রে শিশুর খেলা বা মেশার সময়কে সংক্ষিপ্ত রাখতে হবে।
পর্যাপ্ত ঘুমের জন্য শিশুকে শারীরিক ব্যায়ামে অভ্যস্ত করুন।

🇨🇭 শিশুদের মধ্যে ADHD এর লক্ষণ ও উপসর্গ:

🇨🇭 আপনার সন্তান কি অন্য বাচ্চাদের তুলনায় বেশি দৌড়াচ্ছে? আপনার সন্তানের কি স্থির থাকতে অসুবিধা হয়? শিশুদের মধ্যে ADHD লক্ষণ এবং ADHD উপসর্গ এবং চিকিত্সা জানতে এই ব্লগটি পড়ুন। অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাকটিভিটি ডিসঅর্ডার (ADHD) হল একটি সাধারণ আচরণগত সমস্যা যা 12 বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে দেখা যায়। নির্দিষ্ট প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে এটি দেরিতে শুরু হয়।

🇨🇭 শিশুর পিতামাতাদের শিশুদের মধ্যে ADHD এর বিভিন্ন লক্ষণ ও উপসর্গের প্রতি মনোযোগী হওয়া উচিত। এই ব্যাধিটির জন্য ওষুধ এবং থেরাপির সঠিক ডোজ সহ উপযুক্ত চিকিত্সা প্রয়োজন।

🇨🇭 ADHD কি?

🇨🇭 ADHD বলতে বোঝায় অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাকটিভিটি ডিসঅর্ডার। ADHD শৈশবকালেই এর সূচনা হতে পারে, যদিও শিশুর বয়স না হওয়া পর্যন্ত এটি খুব কমই বোঝা যায়। সাধারণত, ADHD-এ আক্রান্ত শিশুরা অতিরিক্ত সক্রিয় থাকে, অল্প ঘুমায় এবং প্রচুর পরিমাণে কাঁদে।

🇨🇭 স্কুলে, ADHD সহ শিশুরা খুব আবেগপ্রবণ হতে পারে এবং প্রশ্ন শেষ হওয়ার আগেই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে এবং প্রায়শই ভুল হতে পারে। ADHD সহ শিশুরা খুব অধৈর্য হয়। বাড়িতে তারা এক মিনিটের জন্যও বিশ্রাম নেয় না এবং তাদের ঘুম পাড়ানো অত্যন্ত কঠিন।

🇨🇭 এডিএইচডি আক্রান্ত শিশুদের দুর্ঘটনার প্রবণতা বেশি। ADHD নির্ণয় করা শিশুদের একটি উল্লেখযোগ্য শতাংশ অবাধ্যতার আচরণগত লক্ষণ দেখায়। স্কুলের অসুবিধা, শেখার এবং আচরণগত উভয়ই এই শিশুদের সাথে সাধারণ। তারা বিভিন্ন শেখার অসুবিধার সম্মুখীন হতে পারে।

🇨🇭 শিশুদের মধ্যে ADHD এর সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ ও উপসর্গগুলি কী কী?

🇨🇭 আমেরিকান সাইকিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশন (এপিএ) দ্বারা প্রকাশিত ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড স্ট্যাটিস্টিক্যাল ম্যানুয়াল 5 ( DSM- 5 ) অনুসারে আপনার সন্তানের মধ্যে ADHD-এর কিছু লক্ষণ ও উপসর্গের দিকে খেয়াল রাখতে হবে:

  • 🩸 মনোযোগ দিতে ব্যর্থ।
  • 🩸 কাজ বা খেলার কার্যকলাপে মনোযোগ ধরে রাখতে অসুবিধা।
  • 🩸 সরাসরি কথা বললে শোনার কথা মনে হয় না।
  • 🩸 নির্দেশাবলী অনুসরণ করে না
    কার্যক্রম পরিচালনা করতে অসুবিধা হয়।
  • 🩸 স্থির প্রচেষ্টার কাজগুলি অপছন্দ।
  • 🩸 সহজে জিনিস হারিয়ে ফেলা বা ভুল জায়গায় রাখা।
  • 🩸 বাইরের ঘটনা দ্বারা সহজেই বিভ্রান্ত।
  • 🩸 দৈনন্দিন কাজ প্রায়ই ভুলে যাওয়া।
  • 🩸 হাত-পা ঠোকা।
  • 🩸 ক্লাস চলাকালীন উঠে দাঁড়ান।
  • 🩸 প্রায়ই অতিরিক্ত কথা বলা।
  • 🩸 প্রশ্ন সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই উত্তর দেওয়া।

🇨🇭 চেকলিস্টে এই ADHD লক্ষণগুলি বুঝতে সাহায্য করে। এই সমস্ত ADHD লক্ষণ এবং উপসর্গ আপনার সন্তানের মধ্যে উপস্থিত থাকতে পারে বা নাও থাকতে পারে। এই জাতীয় সমস্ত শিশু এই সমস্ত লক্ষণগুলি দেখায় না কারণ DSM- 5 উল্লেখ করে যে এই লক্ষণগুলির বেশিরভাগই 12 বছর বয়সের মধ্যে উপস্থিত হতে হবে। সাবটাইপগুলির মধ্যে প্রধানত অমনোযোগী, প্রধানত হাইপারঅ্যাকটিভ / ইম্পলসিভ হয়। ADHD-এর সঠিক নির্ণয়ের জন্য RCI – নিবন্ধিত ক্লিনিকাল সাইকোলজিস্টের সাথে পরামর্শ করতে হবে।

ডাঃ মাসুদ হোসেন

🇨🇭 শিশুদের মধ্যে ADHD এর কারণ কি?

🩸 শিশুদের মধ্যে ADHD এর বিভিন্ন কারণ রয়েছে যেমন:

🩸 জেনেটিক ফ্যাক্টর: বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে অভিন্ন যমজরা ভ্রাতৃত্বকালীন যমজদের তুলনায় ADHD এর সহজ লক্ষ্য।

🩸 নিউরোকেমিক্যাল ফ্যাক্টর: ডোপামিন এবং নোরপাইনফ্রিনের ত্রুটি শিশুদের মধ্যে বেশিরভাগ ADHD উপসর্গের জন্য দায়ী বলে মনে করা হয়।

🩸অকালে জন্মানো: ADHD-এর উচ্চ হার দেখা যায় অকালে জন্মানো শিশুদের এবং গর্ভাবস্থায় সংক্রমণের শিকার মায়েদের মধ্যে।

🩸 মনোসামাজিক কারণ: শৈশবকালে অপব্যবহার, অবহেলা, এবং গুরুতর দুর্ব্যবহার পরবর্তী শৈশব বছরগুলিতে ADHD বিকাশে অবদান রাখার সম্ভাব্য কারণ।

🇨🇭 ADHD নির্ণয় করা শিশুদের জন্য রিটালিন সবচেয়ে জনপ্রিয় ওষুধগুলির মধ্যে একটি। এটি পরামর্শ দেওয়া হয় যে আপনার ডাক্তার একই পরামর্শ না দেওয়া পর্যন্ত আপনি কোনও ওষুধ শুরু করবেন না। এছাড়াও, দীর্ঘমেয়াদে লক্ষণগুলি পরিচালনা করার জন্য আচরণ থেরাপির পরামর্শ দেওয়া হয়। এটি সাধারণত দেখা যায় যে শুধুমাত্র সঠিক ওষুধ এবং থেরাপির সম্মিলিত প্রভাব শিশুদের মধ্যে ADHD-এর বিভিন্ন লক্ষণ ও উপসর্গগুলি পরিচালনা করতে সাহায্য করতে পারে।

🇨🇭 একটি শিশু 12 বছর বয়সে ADHD এর বেশ কয়েকটি উপসর্গ দেখাতে পারে। সন্তানের ADHD আছে কিনা তা নিশ্চিত করার জন্য তাদের সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে কিনা তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা এবং তাদের ডাক্তারের সাথে পরীক্ষা করা পিতামাতার উপর নির্ভর করে।

🇨🇭 উপসংহার: শিশুর মাত্রারিক্ত ধ্বংসাত্মক চঞ্চলতাকে স্বাভাবিক বলে এড়িয়ে যাবেন না। বরং একে প্রশ্রয় না দিয়ে একটু সচেতন হলেই কিন্তু বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। শিশুর ভবিষ্যৎও সুরক্ষিত থাকবে।

🇨🇭 হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা দীর্ঘস্থায়ী রোগ থেকে মুক্তির উপায়। একজন হোমিও ডাক্তারের/ চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা উচিত। সাইড ইফেক্ট নেই এমন হোমিওপ্যাথি ঔষধ কাজে লাগাবেন। সুস্থ জীবন যাপনের জন্য পরবর্তী ধাপগুলো অর্থাৎ- যথাযথ চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে সুস্থতা অর্জন করতে পারবেন। হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় Homeo হোমিও ওষুধ খান।

🇨🇭 ডাঃ মাসুদ হোসেন।
Dr. Masud Hossain.
( ডি, এইচ, এম, এস ) ঢাকা।
রেজিস্টার্ড হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক ( রেজি: নং- 35423 )

যেসব হোমিও ঔষধ ও খাবার খেলে পুরুষের লিঙ্গ মোটা হয়

🇨🇭 বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড। [ নিবন্ধন নং- Gov.Reg. No. 35423 ] রেজিস্ট্রার প্রাপ্ত ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

🇨🇭 আমার এই দুইটি নাম্বার:

   +8801907-583252
   +8801302-743871

( What’sApp- হোয়াটসঅ্যাপ এবং Imo- ইমো ) খোলা আছে, চিকিৎসা নিতে চাইলে আমার এই দুইটি নাম্বার ফোনে সেভ করে সমস্যাগুলো লিখে অথবা অডিও রেকর্ড দিয়ে জানাবেন। আমি ফ্রী হয়ে সঠিক তথ্য দিয়ে চিকিৎসা দিতে চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।

🛑 অরিজিনাল জার্মানী ঔষধ ও উন্নত চিকিৎসার জন্য একটি বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান।

🇨🇭 রোগী দেখার সময়:
🛑 বিকাল 05:00 রাত 10:00 টা পর্যন্ত।

🇨🇭 সতর্কতাঃ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ খাওয়া ঝুকিপূর্ণ।

☎+8801907-583252 (WhatsApp, IMO)।

☎ +8801302-743871 (WhatsApp, IMO)।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার সমস্যা মন খুলে বলুন।
Send via WhatsApp
error: Content is protected !!